এতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভারতের শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে দেশটির বিপণন কোম্পানিগুলো। এ সংকটের বিষয়ে অবগত শিল্পসংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে গত সোমবার পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। এ উত্তেজনার জেরে কাতার এলএনজি উত্তোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও জাহাজ ভাড়া এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে।
ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক দেশ। জ্বালানি আমদানির জন্য দেশটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারতের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড (পিএলএনজি) এরই মধ্যে সরবরাহ হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ বিপণন কোম্পানি গেইল (ইন্ডিয়া) ও অন্যান্য সংস্থাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
গেইল ও ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (আইওসি) গত সোমবার রাতে গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ কমানোর বিষয়ে অবহিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ কর্তনের পরিমাণ ১০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনো জরিমানার মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চুক্তিতে উল্লিখিত সর্বনিম্ন উত্তোলনের (মিনিমাম লিফটিং) পরিমাণ বজায় রাখা হয়েছে।
গেইল, পেট্রোনেট ও ইন্ডিয়ান অয়েল এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছে।
এলএনজির এ ঘাটতি মেটাতে ইন্ডিয়ান অয়েল, গেইল ও পেট্রোনেট স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার জন্য টেন্ডার দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে এলএনজির স্পট মূল্য অনেক চড়া। এর সঙ্গে জাহাজ ভাড়া ও বীমা খরচও অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ভারতের শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।